তৈয়বুর রহমান(তুহিন),চরফ্যাসন প্রতিনিধি।।চরফ্যাসনে সাপের কামড়ে প্রিয়সি দাস (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে ৷ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের জামিলি কুমার দাস বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারী স্থানীয় ব্যবসায়ী সুভাষ দাস এর স্ত্রী।
মৃতের স্বামী সুভাষ দাস জানান, নিজ বাসার তাক থেকে পুরনো কাগজপত্র নামাতে গেলে তার স্ত্রী প্রিয়সি দাসকে সাপে কামড় দেয় ৷ প্রথমে সাপের কামড় সন্দেহ হয়নি ৷ কিছুক্ষণ পর বমি করতে দেখে ক্ষতস্থানের পাশে শক্ত করে বেঁধে কাটাছেঁড়া বা ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়। সাপও দেখতে পাই আমরা। স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে সন্ধ্যার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে মেডিসিন প্রয়োগের পর রাত ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন ৷
চরফ্যাসন হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুব কবির বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ সাপের কামড় এর লক্ষণ বা উপসর্গগুলো সম্পর্কে ধারণা নেই, তাই সাপ না দেখে বিশ্বাস করতে পারেনা ৷ কেউ কেউ বুঝলেও সাধারনত কামড়ের স্থানের পাশে শক্ত করে কাপড় বা ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখেন, চুষে বা কেটে বিষ বের করে আনার চেষ্টা, ঝাড়ফুঁক, তাবিজ, পানি পড়া ইত্যাদি করে বিষ নামানোর চেষ্টা করে যা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসায় নিষেধ ৷ এসকল বিষয় পরিহার করে সাপে কামড় দিলে দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ৷
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিষধর সাপের কামড়ে পৃথিবীতে প্রতিবছর কমপক্ষে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৪ লাখ মানুষ প্রতিবন্ধিত্ব বরন করেন ৷ সাপের কামড়ে আমাদের দেশে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যার হিসাব না রাখায় এ ধরনের মৃত্যুর সঠিক হিসাব জানা সম্ভব নয় ৷ বাংলাদেশে সাপের কামড়ের বিষ নিধন অ্যান্টিভেনম আনা হচ্ছে ভারত থেকে ৷
কিন্তু ভারতের সাপের ধরন আমাদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় সব ক্ষেত্রে কার্যকারিতা পাওয়া যায় না ৷ আর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এধরনের অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নেই বললেই চলে ৷ সাপের কামড়ে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিত্ব কমিয়ে আনতে অ্যান্টিভেনম ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসায় মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও সহজলভ্য নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীর দাবি ৷